05 March 2015

আমি শয়তান

আমার কোনো ভূমিকার প্রয়োজন নেই। তোমাদের প্রভু আমাকে বহুবার তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তোমরা তা থেকে শিক্ষা নাওনি। কারণ, আমি জানতাম তোমরা স্বার্থপর। অযোগ্য। তোমরা ও তোমাদের বাবাকে বানানো হয়েছে কাদামাটি থেকে। কিন্তু আমাকে, আমাকে বানানো হয়েছে আগুন থেকে! এরপরও আমাকে বলা হয়েছে তোমাদের সামনে সিজদাহ করতে। [১]

কেন? কেন আমি তোমাদের সিজদাহ করব? আমি অভদ্রের মতো সেই আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছি। আদাম থেকে আমি অবশ্যই বহুগুণে সেরা। আমার এই প্রত্যাখ্যানের কারণে তোমাদের প্রভু আমাকে ওয়াদা করেছেন—জাহান্নামের ওয়াদা, চিরকালের জন্য...

28 February 2015

অবিশ্বাসীর মৃত্যুতে আস্ফালন

একজন অবিশ্বাসীর মৃত্যুতে আমাদের দুঃখ পাওয়া উচিত। কাউকে আগেভাগে জাহান্নামে ঢুকিয়ে আমাদের যেমন কোনো লাভ নেই। তেমনি লাভ নেই মহান আল্লাহরও।
সূরাহ ইয়া সীন-এ আমরা দেখি যে, একটি নগরীতে যখন দুজন বার্তাবাহক এসেছিলেনমানুষকে আল্লাহর একত্বের দিকে আহ্বান জানাতেতখন নগরীর লোকজন তাঁদের অস্বীকার করেন। আল্লাহ তখন তৃতীয় আরেকজন রাসূলকে পাঠিয়ে তাঁদের শক্তিবৃদ্ধি করেন। কিন্তু এরপরও নগরীর লোকজন তাদের অস্বীকার করেন, এবং আল্লাহর একত্বে অবিশ্বাসী থাকেন।

12 February 2015

জীবনের তিনটি মহাপ্রশ্ন

প্রথম ভাগ — কে আমাদের স্রষ্টা?

মূল: ড. লরেন্স ব্রাউন (Dr. Lawrence Brown) 

জীবনের কোনো এক পর্যায়ে যেয়ে সবার মনেই এই প্রশ্ন জাগে: “কে আমাদের সৃষ্টি করেছেন?”, “কেন আমরা এখানে এসেছি?”

তো কে আমাদের সৃষ্টি করলেন? আমাদের অধিকাংশ মানুষই ধর্মের মাঝে যতটা না বেড়ে উঠেছি তার চেয়ে বেশি বেড়ে উঠেছি বিজ্ঞানের মাঝে। আর তাই আমরা স্রষ্টাকে যতটা না বিশ্বাস করি তার চেয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বিগ ব্যাং বা মহা বিস্ফোরণ ও বিবর্তন তত্ত্বকে। কিন্তু কোনটা বেশি অর্থবহ? বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্ব যে পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে না এর পেছনে কি কোনো কারণ আছে?

মহা বিস্ফোরণ হয়তো মহাবিশ্ব সূচনার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে, কিন্তু মহা বিস্ফোরণের জন্য যে আদি ধূলিকণার প্রয়োজন ছিল সেটা কোথা থেকে এল সেই ব্যাখ্যা সে দিতে পারে না। নিশ্চয় কোথাও-না-কোথাও থেকে এসেছে এই ধূলিকণা দুটোএ দুটোর মধ্যে এত পরিমাণ পদার্থ ছিল যে শুধু আমাদের গ্যালাক্সিই নয় এ ধরনের আরও কোটি কোটি গ্যালাক্সির জন্ম দিতে পেরেছেএখন প্রশ্ন হলো এই ধূলিকণা কোথা থেকে এল? কে বা কী এই আদি ধূলিকণা সৃষ্টি করেছে?

28 January 2015

ঘুমিয়ে নেই খালেদা জিয়ারা; ঘুমিয়ে আছি আমরা

টেলিভিশনের সঙ্গে আমার দূরাত্মীয়মূলক সম্পর্ক চলছে গত প্রায় এক বছর ধরে। প্রচারমাধ্যমের পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধহীন অনুষ্ঠান (অধিকাংশক্ষেত্রে) প্রচার দিনকে দিন টেলিভিশনের প্রতি আমার অনীহা বাড়িয়ে তুলছে। তবে বাসায় টিভি সেট থাকায় ইচ্ছে না-থাকা সত্ত্বে মাঝেমধ্যে চোখ চলে যায়, কানে বেজে ওঠে বিভিন্ন খবরাখবর। তেমনই কিছু খবর ব্রেকিং নিউজ হিসেবে টিভি পর্দার নিচে এসে আমার চোখকে টেনে ধরেছিল। প্রথম খবরটা ছিল এরকম যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুলশানে খালেদা জিয়ার বাড়িতে যাচ্ছেন সমবেদনা জানাতে। দ্বিতীয় খবরটা ছিল খালেদা জিয়াকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে আর গেট না-খোলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্থান। এরপর ঘটে গেছে আরও অনেক খবর; একের পর এক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

19 January 2015

প্রেসক্রিপশন

প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসা হিসেবে অন্যান্য বেশ কিছু ওষুধের সঙ্গে ডাক্তার আমার স্ত্রীকে দুটো এন্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়েছেন। একটা আট ঘণ্টা পরপর, আরেকটা ছয় ঘণ্টা পরপর খেতে হচ্ছে। আমরা ঠিক নিয়ম করেই ওষুধগুলো তাকে খাওয়াচ্ছি। এন্টিবায়োটিক ওষুধগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর না-খাওয়ালে কিছু সমস্যা হয়। একারণে আমরা এব্যাপারে বেশ সতর্ক। যেহেতু ব্যাপারটা চিকিৎসা-সংক্রান্ত সেহেতু ডাক্তারের নির্দেশই এব্যাপারে শিরোধার্য। কারণ, অসুখ-বিসুখ রোগব্যাধির ব্যাপারে তারাই সবচেয়ে ভালো জানবেন। তাই কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক, প্রশ্ন না করেই আমরা বিনা দ্বিধায় চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যাপারে ডাক্তারের আদেশ বাধ্য সন্তানের মতো পালন করে যাই।

মজার ব্যাপার হচ্ছে শারীরিক অসুখের ব্যাপারে মানুষ যতটা নিয়মানুবর্তী, আধ্যাত্মিক ব্যাপারে তারা ঠিক ততটাই উদাসীন। মানুষের মনেরও যে চিকিৎসা প্রয়োজন, ওষুধ প্রয়োজন এবং যেক্ষেত্রে অবজ্ঞা পরকালীন অনন্ত জীবনে মানুষকে জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে সে ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই বেখেয়াল।

07 January 2015

নিজ নরকে

“পাপ তো ঘোচাতেই হবে: হয় এই দুনিয়ায় অনুতাপের আগুনে পুড়িয়ে, নয়তো পরকালে জাহান্নামের আগুনে জ্বলিয়ে।” —ইব্‌ন আল-কায়্যিম

প্রতিদিনকার জীবনে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম তরুণদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে চলতে হয়। আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন বহু সামাজিক, পারিবারিক কিংবা সাংস্কৃতিক প্রচারণা, আদর্শের সাথে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হয় অবিরত। অহংকার, লালসা, লোভ, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক, মদ/নেশা, নারীদের প্রতি বিদ্বেষ ইত্যাদিতে ছেয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

এগুলো ছাড়াও আরও নানান ধরনের অনৈসলামিক সামাজিক প্রথা ও সংস্কারের মাঝে ডুবে আছি আমরা। বর্ণবাদ, জোরপূর্বক বিয়ে, নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা, বংশপ্রীতি—এ ধরনের অনেক কিছুই চলছে বিভিন্ন মুসলিম সমাজে।

03 August 2014

বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও

'বন্ধু' শব্দের একটা অর্থ হচ্ছে শুভার্থী—শুভ ইচ্ছে করে যে। আরও কিছু অর্থের মধ্যে রয়েছে: প্রিয়জন, প্রণয়ী। বন্ধু তাই শুধু সমবয়সীরাই হয় না। বন্ধু হয় অনেক রকম। আমাদের প্রিয়জন আমাদের বন্ধু হতে পারে, আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলো আমাদের বন্ধু হতে পারে। যে-ই আমার জন্য শুভ ইচ্ছা করবে সে-ই আমার বন্ধু। বন্ধ্+উ।

আপনার বন্ধু কি আপনার জন্য শুভ কামনা করে? কেন করবে না! প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় তো এখানেই—কে আপনার কল্যাণ চাচ্ছে আর কে অকল্যাণ। আমি হলফ করে বলতে পারি আমার কোনো বন্ধু কখনো চাবে না আমি দুঃখে পড়ি, কষ্ট করি, অশান্তিতে থাকি, বাজে অবস্থায় থাকি। আমিও তেমনি আমার বন্ধুর জন্য কখনো এমন চাই না।

কিন্তু তারপরও নিজের অজান্তেই আমরা অনেকে আমাদের বন্ধুদেরকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাই। নিয়ে যাই পতনের চূড়ান্ত সীমায়। এই আমরাই।