15 January 2016

আমার মেয়ের এক বছর

সৌর বৎসরের হিসেবে আজ আমার মেয়ের এক বছর পূর্ণ হলো। ওর জন্য নির্ধারিত আয়ুষ্কাল থেকে এক বছর কমে গেল। বিষয়টা আশাবাদী (অপটিমিস্টিক) কিংবা নৈরাশ্যবাদী (পেসিমিস্টিক) হওয়ার কিছু না—এটা বাস্তবতা।

প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ আমাদের আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে একটু একটু করে। আমরা ধেয়ে যাচ্ছি মৃত্যুর পানে। মৃত্যু: সেই অনিবার্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। মৃত্যুর ব্যাপারে আল্লাহর বার্তাবাহক মুহ়াম্মাদ (স়াল্লাল্লাাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "'আনন্দকে যা ধ্বংস করে প্রায়ই তাকে মনে করো।' মানে মৃত্যু।" (সুনান ইব্‌ন মাজাহ, হাদীস নং ৪৩৯৯। হাদীসটি: হাসান)

13 January 2016

অভ্যাস গঠনের অ্যাপ

গতপোস্টে সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে অভ্যাস গঠন করার কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম হ্যাবিট চেইন বা প্রতিদিন একটি কাজ নিয়মিত করার ধারা তৈরি করতে। সেজন্য ক্যালেন্ডারে লাল কালিতে ক্রস চিহ্ন দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আর এজন্য প্রয়োজন একটি ক্যালেন্ডার ও মার্কার পেন।

তবে বর্তমান সময় স্মার্টফোনের যুগ। এখন স্মার্টফোনেই অনেক কিছু করা সম্ভব। অপ্রিয় হলেও সত্য, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন আনস্মার্ট কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলে ও সৃষ্টিশীল হলে স্মার্টফোন আসলেই স্মার্ট কাজে ব্যবহার করা যায়। আজকে স্মার্টফোনের এমনই এক স্মার্ট ব্যবহার নিয়ে কথা বলব।

গড়িমসি থেকে অভ্যাসে

সফলতার কোনো সহজ সূত্র নেই। প্রতিভার সঙ্গে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম। আল্লাহ চায় তো, তবেই আসবে সফলতা।

গবেষকদের মতে, কেউ যদি কোনো কাজে সফল হতে চায়, তাহলে সেই কাজে শুধু প্রতিভাবান হলেই হবে না। কাজটা নিয়মিত নিরলসভাবে করে যেতে হবে। কাজটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

আল্লাহর বার্তাবাহক মুহ়াম্মাদ (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) বলেছেন, "…অল্প পরিমাণে করা হলেও, সর্বোত্তম কাজ সেটাই যেটা ধারাবাহিকভাবে করা হয়। (সুনান ইব্‌ন মাজাহ, হাদীস নং ৪২৪০; স়াহ়ীহ়)

13 December 2015

দানা পরিমাণ ঈমান

সেই হাদীসটির কথা আমরা অনেকেই হয়তো জানি—হাত দিয়ে না পারলে মুখ দিয়ে, মুখ দিয়ে না পারলে অন্তত অন্তর থেকে যেন ঘৃণা করি। এটা যদিও সবচেয়ে কমপরিমাণ ঈমানের পরিচায়ক, তবু এটা এমন একটা কাজ যা আমরা "সবাই" করতে সক্ষম।

অনেকের হয়তো হাত দিয়ে কোনো অন্যায় বদলানোর সক্ষমতা নেই, কিংবা থাকলেও পারেন না। অনেকের হয়তো মুখ দিয়ে কোনো অন্যায় বদলানোর সক্ষমতা নেই, কিংবা থাকলেও পারেন না। কিন্তু এমন মুসলিম কি পাওয়া যাবে যিনি অন্তর থেকে কোনো অন্যায়কে ঘৃণা করতে সক্ষম নন?

08 December 2015

নিষিদ্ধ ফেসবুক: "বিকল্প" ব্যবহারকারীদের প্রতি সতর্কবার্তা

বাংলাদেশে ফেসবুকসহ আরও কয়েকটি যোগাযোগের অ্যাপ বন্ধ—খবরটা পুরোনো। আজকের খবর (ডিসেম্বর ৮, ২০১৫; সূত্র: প্রথম আলো) হচ্ছে শিগগিরই ফেসবুক ও অন্যান্য বন্ধ অ্যাপ খুলে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এগুলো বন্ধের পেছনে যে-কারণ দেখানো হচ্ছে তা হচ্ছে: জননিরাপত্তা। অন্য কথায় বেশিরভাগ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কিছু মানুষের সাময়িক অসুবিধাকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। সরকার এক্ষেত্রে কতটুকু সফল সেটা বলার ইচ্ছা আমার নেই। তবে এঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্রষ্টার ঐশী বিধানের অন্যতম একটা দিক সহজে বোঝার একটা প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।

ইসলাম তথা আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনব্যবস্থায় গোটা মানবজাতির কল্যাণের স্বার্থে হাতেগোণা কিছু কাজ বা বিষয় নিষিদ্ধ (হারাম) করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিস্বার্থকে আমলে না-নিয়ে গোটা মানবজাতির কল্যাণ, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা হয়েছে। দুটো উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজ করছি।

01 December 2015

অনলাইন বইয়ের বাজার থেকে বই কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা সমস্যা ও প্রস্তাবনা

তখন সম্ভবত তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের স্কুলে একদিনের জন্য বইমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মূলত শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিভিন্ন বইয়ের সম্ভার ছিল সে-মেলায়। যেদিন মেলা হবে তার একদিন আগেই মাইকে ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ছোটোবেলা থেকেই আমার মধ্যে গল্পের বই পড়ার অভ্যাস ছিল। মনে আছে ক্লাস টুতে ভালো ফলাফল করার পুরস্কার হিসেবে রাবেয়া বসরী (র)-এর বই উপহার পেয়েছিলাম। এছাড়াও আরও বিভিন্ন সময়ে উপহার হিসেবে বিভিন্ন বই পেয়েছি। সম্ভবত সবচেয়ে মূল্যবান ছিল বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি থেকে পাওয়া এক বান্ডিল বই!

05 June 2015

দা‘ঈর দায়িত্ব ও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ

[ড. সালাহ আস-সাওয়ির দাওয়াহ বিষয়ক কোর্স লেকচার অবলম্বনে]

একজন দা‘ঈর অন্যতম দায়িত্ব ইসলামের বার্তা স্পষ্ট করে পৌঁছে দেওয়া। মহান আল্লাহ আল-কুর’আনে বলছেন (অর্থের ব্যাখ্যা):

“তোমরা যদি (তোমাদের রাসূলকে) অবিশ্বাস করো, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোও (তাদের রাসূলদের) অবিশ্বাস করেছিল। স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া ছাড়া রাসূলের আর কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।” [সূরাহ আল-‘আনকাবুত, ২৯:১৮]

দা‘ওয়াহ দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে এই কাজে কোনো বিনিময় নেওয়া যাবে না। সূরাহ ইঊনুসে মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন (অর্থের ব্যাখ্যা):

“আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও (আমার কথা মানতে রাজি না হও), তাহলে (জেনে রাখো), আমি তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাইনি; আমার বিনিময় তো আল্লাহর কাছেই আছে; আর আমাকে (আল্লাহর) অনুগত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” [সূরাহ ইঊনুস, ১০:৭২]