20 February 2016

'মুক্ত'চিন্তায় স্বাগতম

চট্টগ্রাম এলেই আমার একটা বাতিক হচ্ছে বইঘর (লাইব্রেরি) ঘুরে দেখা। কোনো বই কেনার তাগিদ থাকুক কি না থাকুক, আমি লাইব্রেরি ঘুরি—বই দেখি, উল্টে পাল্টে দেখি। নতুন কী বই এল, বইয়ের আকার আকৃতির কেমন রূপ বদলাল এগুলো খেয়াল করি। মোট পৃষ্ঠার তুলনায় দামটা কেমন সেটা মেপে দেখি। ব্যক্তিগতভাবে আমি একটা প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তাই বইয়ের বাহ্যিক ব্যাপারটাও মাথায় ঢুকে গেছে।

বইয়ের সঙ্গে যাদের ন্যূনতম সম্পর্ক আছে তারা সম্ভবত “বাতিঘর” লাইব্রেরির নাম শুনে থাকবেন। একটি সম্পূর্ণ লাইব্রেরি বলতে যা বোঝায় এটা অনেকটা তা-ই। ভাষা, সাহিত্য থেকে শুরু করে প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস কিংবা গবেষণাধর্মী সব ধরনের বইয়েরই খনি এই লাইব্রেরি। শত শত বইয়ের ভিড়ে মনটা একটু থিতিয়ে গেলে কফি পান করে চাঙা হওয়ার সুযোগ আছে এখানে। কাজেই বইপ্রেমীদের জন্য আদর্শ এক স্থান এটা।

16 February 2016

শখ থেকে শক

সদ্য এক বছর পেরোনো আমার মেয়ের নতুন শখ হয়েছে বৈদ্যুতিক সুইচ নিয়ে খেলা। ওকে কোলে করে নিয়ে কোনো সুইচের সামনে গেলেই হলোঅমনি ছটফট করে উঠবে সুইচ দাবানোর জন্য। যদিও ওর হাতের আঙুলে এখনো অতটা জোর হয়নি যে পুরোপুরি সুইচ দাবাতে পারবে, তবুও ওটুকুতেই অনেক মজা পায়। আমাকেও ধৈর্য ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অধিকাংশ বৈদ্যুতিক সুইচের পাশের খোপে থাকে বৈদ্যুতিক সকেট। অসাবধানবশত সেগুলোর কোনো একটা যদি অন থাকা অবস্থায় আঙুল ঢুকিয়ে দেয় তাহলেই সেরেছে। সে নিজে তো শক খাবেই, আমিও খাব। তাই চেষ্টা করছি অন্য কোনো খেলায় যেন ওর মন সরিয়ে নেওয়া যায়। 

12 February 2016

বাংলা শব্দের অর্থ জানার অ্যাপ

সেদিন পত্রিকায় একটা প্রবন্ধ পড়ছিলাম। প্রবন্ধের এক জায়গায় লেখক একটা শব্দ ব্যবহার করেছেন: "শ্লাঘা"। আমি বাংলা সাহিত্যের ঝানু পাঠক না-হলেও এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উপরোক্ত শব্দের অর্থ অনেকেরই অজানা। লেখকেরা সাধারণত পাণ্ডিত্য বা শব্দ দখলের মুনশিয়ানা দেখাতে অনেক সময় এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করতেই পারেন। তাতে আপত্তির কিছু নেই। সমস্যা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশিরা বাংলা ভাষা নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বললেও সত্যিকার অর্থে ভাষা চর্চা তেমন করি না। কাজেই শ্লাঘা তো শ্লাঘা, এর চেয়ে ঢের সহজ শব্দের অর্থ অনেকেই জানি বলে মনে হয় না। ইংরেজি ভোকাবুলারি বা শব্দভান্ডার বাড়ানোর জন্য আমাদের শিক্ষিত ও সচেতন সমাজে অনেক কসরৎ লক্ষ্য করা গেলেও বাংলার ক্ষেত্রে মানুষের চেষ্টা যে অনেক কম তা সমীক্ষা না করেও বলা যায়।

15 January 2016

আমার মেয়ের এক বছর

সৌর বৎসরের হিসেবে আজ আমার মেয়ের এক বছর পূর্ণ হলো। ওর জন্য নির্ধারিত আয়ুষ্কাল থেকে এক বছর কমে গেল। বিষয়টা আশাবাদী (অপটিমিস্টিক) কিংবা নৈরাশ্যবাদী (পেসিমিস্টিক) হওয়ার কিছু না—এটা বাস্তবতা।

প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ আমাদের আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে একটু একটু করে। আমরা ধেয়ে যাচ্ছি মৃত্যুর পানে। মৃত্যু: সেই অনিবার্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। মৃত্যুর ব্যাপারে আল্লাহর বার্তাবাহক মুহ়াম্মাদ (স়াল্লাল্লাাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "'আনন্দকে যা ধ্বংস করে প্রায়ই তাকে মনে করো।' মানে মৃত্যু।" (সুনান ইব্‌ন মাজাহ, হাদীস নং ৪৩৯৯। হাদীসটি: হাসান)

13 January 2016

অভ্যাস গঠনের অ্যাপ

গতপোস্টে সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে অভ্যাস গঠন করার কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম হ্যাবিট চেইন বা প্রতিদিন একটি কাজ নিয়মিত করার ধারা তৈরি করতে। সেজন্য ক্যালেন্ডারে লাল কালিতে ক্রস চিহ্ন দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আর এজন্য প্রয়োজন একটি ক্যালেন্ডার ও মার্কার পেন।

তবে বর্তমান সময় স্মার্টফোনের যুগ। এখন স্মার্টফোনেই অনেক কিছু করা সম্ভব। অপ্রিয় হলেও সত্য, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন আনস্মার্ট কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলে ও সৃষ্টিশীল হলে স্মার্টফোন আসলেই স্মার্ট কাজে ব্যবহার করা যায়। আজকে স্মার্টফোনের এমনই এক স্মার্ট ব্যবহার নিয়ে কথা বলব।

গড়িমসি থেকে অভ্যাসে

সফলতার কোনো সহজ সূত্র নেই। প্রতিভার সঙ্গে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম। আল্লাহ চায় তো, তবেই আসবে সফলতা।

গবেষকদের মতে, কেউ যদি কোনো কাজে সফল হতে চায়, তাহলে সেই কাজে শুধু প্রতিভাবান হলেই হবে না। কাজটা নিয়মিত নিরলসভাবে করে যেতে হবে। কাজটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

আল্লাহর বার্তাবাহক মুহ়াম্মাদ (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) বলেছেন, "…অল্প পরিমাণে করা হলেও, সর্বোত্তম কাজ সেটাই যেটা ধারাবাহিকভাবে করা হয়। (সুনান ইব্‌ন মাজাহ, হাদীস নং ৪২৪০; স়াহ়ীহ়)

13 December 2015

দানা পরিমাণ ঈমান

সেই হাদীসটির কথা আমরা অনেকেই হয়তো জানি—হাত দিয়ে না পারলে মুখ দিয়ে, মুখ দিয়ে না পারলে অন্তত অন্তর থেকে যেন ঘৃণা করি। এটা যদিও সবচেয়ে কমপরিমাণ ঈমানের পরিচায়ক, তবু এটা এমন একটা কাজ যা আমরা "সবাই" করতে সক্ষম।

অনেকের হয়তো হাত দিয়ে কোনো অন্যায় বদলানোর সক্ষমতা নেই, কিংবা থাকলেও পারেন না। অনেকের হয়তো মুখ দিয়ে কোনো অন্যায় বদলানোর সক্ষমতা নেই, কিংবা থাকলেও পারেন না। কিন্তু এমন মুসলিম কি পাওয়া যাবে যিনি অন্তর থেকে কোনো অন্যায়কে ঘৃণা করতে সক্ষম নন?