25 April 2016

বায়োমেট্রিকস পদ্ধতিতে আত্মা (সিম) নিবন্ধন

অবশেষে আজকে দুটো সিম বায়োমেট্রিকস পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে এলাম কেউ কেউ দাবি করছেন এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে সরকারপক্ষের দাবি এতে জননিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে অবৈধ কাজে সিম ব্যবহার করলে অবৈধ ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা সহজ হবে

নিবন্ধন করতে যেয়ে বায়োমেট্রিকস পদ্ধতি নিয়ে জানার একটু আগ্রহ জাগল নেট ঘেঁটে বুঝতে পারলাম, এটা হচ্ছে মানুষের দেহের বিভিন্ন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য যেমন: ডিএনএ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের রেটিনা ও আইরিস, কণ্ঠস্বর, চেহারা ও হাতের মাপ এগুলো মেপে ও বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত তথ্য জমা করা ও শনাক্ত করার পদ্ধতি[i]  তবে অন্যান্য পদ্ধতিগুলোর তুলনায় কোনো ব্যক্তি বা অপরাধী শনাক্তকরণে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ বেশি ব্যবহৃত হয়

30 March 2016

মতভেদ করছেন নাকি ক্যাচাল?


ফেসবুক, ব্লগ, ওয়েবসাইট—অনলাইনে ক্যাচাল করার সবচেয়ে জনপ্রিয় তিন মাধ্যম। কারও কোনো কথা পছন্দ হলো না, অমনি শুরু হয়ে গেল। কারও কোনো যুক্তি নিজের আবেগ-বিশ্বাসে হানা দিল, শুরু হলো পাল্টা হামলা। কারও প্রমাণ নিজের পূর্বধারণার পরিপন্থী, ব্যাস শুরু হলো ক্যাচাল।

অনলাইনে নিজের মত প্রকাশের সহজতার কারণে আজকাল চায়ের দোকান থেকে ক্যাচাল জায়গা করে নিয়েছে কিবোর্ডে। অথচ একটু সতর্ক হলে, মাথাটা ঠান্ডা রাখলে, যৌক্তিক উপায়ে আগালে এই ক্যাচালই উন্নীত হতে পারে পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ মতপার্থক্যে। মানুষ সাধারণত কীভাবে ক্যাচাল করে সে ব্যাপারে প্রোগ্রামার, লেখক পল গ্রাহাম (পিএইচডি) তাঁর ওয়েবসাইটে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি মতপার্থক্যের সাতটি ধরন উল্লেখ করেছেন। এগুলোর প্রথম তিনটি ধরন নির্ঘাত ক্যাচালের আওতায় পড়বে। পরের দুটোকে “ভিন্নমত” হিসেবে ধরা যায়। আর বাকি দুটোকে আমার মতে শ্রদ্ধাপূর্ণ মতপার্থক্যের মধ্যে ফেলা যায়।

21 March 2016

কীভাবে নিজের অনুবাদকে সাবলীল করবেন

আজকে সকালের দিকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। সেখানে জিজ্ঞেস করেছিলাম অনুবাদ করতে যেয়ে আমরা কেন আড়ষ্ট হয়ে যাই, কেন আমাদের মৌলিক লেখা সাবলীল ও সহজবোধ্য হলেও, অনুবাদে গুগল ট্রান্সলেটরের ভূত ভর করে?


যে-মন্তব্যগুলো পেলাম, সেগুলোর মূল সুর হচ্ছে: মূলকে ধরে রাখার চেষ্টা। মূল লেখার সঙ্গে প্রতারণা না-করা। নিজের কোনো মন্তব্য না-ঢোকানো। আর এগুলোর ফলাফল প্রায় রোবটিক অনুবাদ বা গুগল ট্রান্সলেশন।

এই পোস্টে আমি চেষ্টা করব, অনুবাদকদের কিছু মিথ ভাঙার। এবং কীভাবে সাবলীল অনুবাদ করা যায় সে ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অধ্যয়ন ভাগাভাগি করার।

17 March 2016

আমি তো নবি না, আমাকে দিয়ে ওসব হবে না

আমরা যখন অনেক মুসলিমদের ইসলামের বিভিন্ন বিধির কথা বলি, তারা বলে বসেন, "আরেহ, তিনি তো ছিলেন নবি, আমরা তো আর নবি না, আমাদের দিয়ে কী ওসব হবে।”

এ ধরর জবাবের সমস্যা দুটো।

১. হীনমন্যতা। এটা শুধু ইসলামি বিধির ক্ষেত্রে না, অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেও হতে পারে। যেমন কারও সামনে যদি আইনস্টাইনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়, তাহলে হয়তো তিনি বলবেন, "আমি কি আর আইনস্টাইন?"

উঠতি কোনো খেলোয়াড়কে যদি সাকিব আল-হাসানের উদাহরণ দেওয়া হয়, তিনি হয়তো বলবেন, "আমি কি আর সাকিব?"

20 February 2016

'মুক্ত'চিন্তায় স্বাগতম

চট্টগ্রাম এলেই আমার একটা বাতিক হচ্ছে বইঘর (লাইব্রেরি) ঘুরে দেখা। কোনো বই কেনার তাগিদ থাকুক কি না থাকুক, আমি লাইব্রেরি ঘুরি—বই দেখি, উল্টে পাল্টে দেখি। নতুন কী বই এল, বইয়ের আকার আকৃতির কেমন রূপ বদলাল এগুলো খেয়াল করি। মোট পৃষ্ঠার তুলনায় দামটা কেমন সেটা মেপে দেখি। ব্যক্তিগতভাবে আমি একটা প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তাই বইয়ের বাহ্যিক ব্যাপারটাও মাথায় ঢুকে গেছে।

বইয়ের সঙ্গে যাদের ন্যূনতম সম্পর্ক আছে তারা সম্ভবত “বাতিঘর” লাইব্রেরির নাম শুনে থাকবেন। একটি সম্পূর্ণ লাইব্রেরি বলতে যা বোঝায় এটা অনেকটা তা-ই। ভাষা, সাহিত্য থেকে শুরু করে প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস কিংবা গবেষণাধর্মী সব ধরনের বইয়েরই খনি এই লাইব্রেরি। শত শত বইয়ের ভিড়ে মনটা একটু থিতিয়ে গেলে কফি পান করে চাঙা হওয়ার সুযোগ আছে এখানে। কাজেই বইপ্রেমীদের জন্য আদর্শ এক স্থান এটা।

16 February 2016

শখ থেকে শক

সদ্য এক বছর পেরোনো আমার মেয়ের নতুন শখ হয়েছে বৈদ্যুতিক সুইচ নিয়ে খেলা। ওকে কোলে করে নিয়ে কোনো সুইচের সামনে গেলেই হলোঅমনি ছটফট করে উঠবে সুইচ দাবানোর জন্য। যদিও ওর হাতের আঙুলে এখনো অতটা জোর হয়নি যে পুরোপুরি সুইচ দাবাতে পারবে, তবুও ওটুকুতেই অনেক মজা পায়। আমাকেও ধৈর্য ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অধিকাংশ বৈদ্যুতিক সুইচের পাশের খোপে থাকে বৈদ্যুতিক সকেট। অসাবধানবশত সেগুলোর কোনো একটা যদি অন থাকা অবস্থায় আঙুল ঢুকিয়ে দেয় তাহলেই সেরেছে। সে নিজে তো শক খাবেই, আমিও খাব। তাই চেষ্টা করছি অন্য কোনো খেলায় যেন ওর মন সরিয়ে নেওয়া যায়। 

12 February 2016

বাংলা শব্দের অর্থ জানার অ্যাপ

সেদিন পত্রিকায় একটা প্রবন্ধ পড়ছিলাম। প্রবন্ধের এক জায়গায় লেখক একটা শব্দ ব্যবহার করেছেন: "শ্লাঘা"। আমি বাংলা সাহিত্যের ঝানু পাঠক না-হলেও এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উপরোক্ত শব্দের অর্থ অনেকেরই অজানা। লেখকেরা সাধারণত পাণ্ডিত্য বা শব্দ দখলের মুনশিয়ানা দেখাতে অনেক সময় এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করতেই পারেন। তাতে আপত্তির কিছু নেই। সমস্যা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশিরা বাংলা ভাষা নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বললেও সত্যিকার অর্থে ভাষা চর্চা তেমন করি না। কাজেই শ্লাঘা তো শ্লাঘা, এর চেয়ে ঢের সহজ শব্দের অর্থ অনেকেই জানি বলে মনে হয় না। ইংরেজি ভোকাবুলারি বা শব্দভান্ডার বাড়ানোর জন্য আমাদের শিক্ষিত ও সচেতন সমাজে অনেক কসরৎ লক্ষ্য করা গেলেও বাংলার ক্ষেত্রে মানুষের চেষ্টা যে অনেক কম তা সমীক্ষা না করেও বলা যায়।